কয়লার বৈশ্বিক চাহিদা দেড় শতাংশ বেড়ে ২০২৪ সালে রেকর্ড ৮৮০ কোটি টনে পৌঁছে। বিশেষ করে চীন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোয় ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় গত বছর বেশ চাঙ্গা হয়ে উঠেছিল বৈশ্বিক কয়লা খাত। তবে চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) দেশগুলোয় এ ব্যবহার বৃদ্ধির প্রবণতা বেশ শ্লথ হয়ে এসেছে। কয়েকটি দেশে তা কমেও এসেছে। প্রধান কয়েকটি বাজারে বছরের শুরুতে স্বল্পমেয়াদে ওঠানামা দেখা গেলেও সার্বিকভাবে ২০২৫ সালের কয়লার বৈশ্বিক চাহিদা মোটামুটি স্থিতিশীল থাকবে বলে মনে করছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)। শুধু চলতি বছর নয়, ২০২৬ সালেও বিশ্বব্যাপী কয়লার চাহিদা স্থিতিশীল পর্যায়ে থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে আইইএ। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চীন ও ভারতে বিদ্যুৎ চাহিদা কমে যাওয়া এবং নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় কয়লার ব্যবহার হ্রাস পেয়েছে। এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে কয়লার ব্যবহার প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) শিল্প খাতে কম ব্যবহার হলেও বিদ্যুৎ খাতে বেশি চাহিদার কারণে মোট ব্যবহার মোটামুটি অপরিবর্তিত ছিল।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এ স্বল্পমেয়াদি ভিন্নতা সত্ত্বেও বৈশ্বিক কয়লা বাজারের মূল কাঠামোগত চালিকাশক্তিগুলো এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে ২০২৫ সালে কিছুটা বৃদ্ধির পর ২০২৬ সালে চাহিদা ২০২৪ সালের তুলনায় কিছুটা কমে আসতে পারে।
আইইএর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত বার্ষিক ‘কোল ২০২৪’ প্রতিবেদনেও অনেকটা একই পূর্বাভাস দেয় হয়েছিল।
প্রতিবেদনে আইইএ জানায়, ২০২৫ সালে চীনে কয়লার চাহিদা কিছুটা (১ শতাংশের কম) কমতে পারে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৭ শতাংশ ও ইইউভুক্ত দেশগুলোয় প্রায় ২ শতাংশ হ্রাসের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
এর আগে আইইএর ‘এনার্জি মার্কেটস অ্যান্ড সিকিউরিটি’র পরিচালক কেইসুকে সাদামোরি বলেন, ‘২০২৫ সালের প্রথমার্ধে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন প্রবণতা দেখা গেলেও এটি বৈশ্বিক কয়লার চাহিদার মৌলিক গতিপথ পরিবর্তন করবে না। চলতি ও আগামী বছর বিশ্বব্যাপী জ্বালানি পণ্যটির ব্যবহার মোটামুটি স্থিতিশীল থাকতে পারে। যদিও বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়া ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে স্বল্পমেয়াদি ওঠানামাও দেখা দিতে পারে।’
তিনি আরো বলেন, ‘চীন এখনো বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত ব্যবহারের তুলনায় ৩০ শতাংশের বেশি কয়লা ব্যবহার করে, যা পণ্যটির বাজার প্রবণতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’
আইইএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর বৈশ্বিক কয়লা উৎপাদনে নতুন রেকর্ড তৈরি হতে পারে। উৎপাদন বৃদ্ধির পেছনে মূল ভূমিকা রাখবে চীন ও ভারত। তবে বাড়তি মজুদ ও নিম্নমুখী দামের কারণে ২০২৬ সালে উৎপাদন হ্রাসের আশঙ্কা আছে।